তিনি বলেন, ‘দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে সারের মজুদ রয়েছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। সার নিয়ে কোনো ধরনের সংকট বা ঘাটতি তৈরি হবে না। কৃষকরা যাতে সময়মতো ন্যায্য দামে প্রয়োজনীয় সার পান, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
গতকাল মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সুফলভোগীদের প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মন্ত্রী। পরে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে মা বকনা গরু ও দানাদার খাদ্য বিতরণ করেন তিনি। একই সময় মাথাভাঙ্গা এলাকায় ফুলদি নদীর খালে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব খাতের আওতায় পোনামাছ অবমুক্ত করেন তিনি।
আমিন উর রশিদ বলেন, ‘দেশের কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এজন্য মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। উৎপাদনের মৌসুমে কৃষক যেন কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য না হন, সেজন্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের সম্ভাবনা অনেক বেশি। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে আগামীতে কৃষিপণ্যই দেশের সর্বোচ্চ রফতানিযোগ্য পণ্য হতে পারে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার মিনি কোল্ড স্টোরেজগুলো ঠিকমতো চালু করতে পারলে কৃষক কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে। বর্তমান সরকার কৃষিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। আগামী দুই থেকে এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে; কৃষিপণ্য রফতানি করব। এর জন্য আমাদেরকে কাজ করতে হবে। পতিত জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে পারলে দেশীয় মাছের চাহিদা পূরণ হবে।’
কৃষিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘দেশের ৭৫ ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। তাদের অর্থনীতি শক্তিশালী হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। বর্তমান সরকার এরই মধ্যে প্রমাণ করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যা বলেন, তা করেন। তিনি বলেন, ‘এ দেশ আমাদের, আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার পবিত্র দায়িত্ব আমাদের। আমরা দায়িত্ব পালন করলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’ জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম, প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এমএ জলিল প্রমুখ।